Bengali Poems & Essays by our friend of

RRKM89 - Parichay Sengupta

(Soon we shall properly present this page. Presently only the contents are being uploaded to this section)

 

PREVIOUS<< >>NEXT

   

    

মন্দার মহিমা

 

সপ্তম শ্রেণীর মাঝামাঝি পৌঁছে টের পাওয়া গেল যে মানবশরীরে মাথার চুল এবং আঙুলের নখ ছাড়াও এমন কিছু অঙ্গ আছে যার আকৃতি পরিবর্তনশীল এবং সেই পরিবর্তনে অনৈচ্ছিক পেশি একটা বেশ বড় ভূমিকা পালন করতে উদগ্রীব। প্রাথমিক ভাবে ব্যাপারটায় খানিকটা খেলা খেলা ভাব থাকলেও অচিরেই বোঝা গেল, কোনওরকম জীবনশৈলী শিক্ষা ছাড়াই, এটা একটা গুরুগম্ভীর বিষয়। নাবালকের না কেটে দিয়ে সা বসানোর প্রথম ধাপ।

এই যে বোঝা যাওয়া এর সাথে সাথেই খুব দ্রুত শুরু হল এক অন্য অধ্যায়। কে-ই বা পিছিয়ে পড়তে চায়, বিশেষত সহপাঠীদের থেকে। অতএব পর্দানশীন রেখে শুরু হয়ে গেল উন্মোথিত যৌবনের প্রদর্শন। প্রতিমা বেদীর নাম শোনা না থাকলেও সামান্যতম সুযোগ পেলেই শুরু হয়ে যেতে লাগল অন্তর্বাস হটাও-এ অংশগ্রহণ। সারাদিন বিভিন্ন এবং সভ্য সমাজের স্বাভাবিক নিয়ম মেনে যথাযথ অবকাশের অভাব থাকলেও দুটি সময় ছিল এ ব্যাপারে একেবারে আদর্শ। একটি তো সহজেই অনুমেয়, খাওয়াদাওয়ার পরে ঘুমনোর সময়, অন্যটি শুনলে অনেকেরই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে উঠতে পারে, তবু সেই সময়টি বা বলা ভাল, দিনে দুবার সেই মহান ক্ষণ আবির্ভূত হত সকাল এবং সন্ধ্যায় মন্দিরে নিত্য প্রার্থনার সময়। কিভাবে কে জানে অন্তর্বাসবিহীন ধুতি পরে প্রার্থনা কক্ষে যাওয়া এবং শুতে যাওয়ার আগে ও ঘুম থেকে উঠে মানচিত্রসম্বলিত আকাশী রংয়ের পাজামাকে কেয়ার করি না ভাব খুব অল্প সময়ের মধ্যেই একটা স্টাইল স্টেটমেন্ট হয়ে উঠল। এবং জানা হয়ে গেল যে একটা বয়সের পরে বিছানা ভেজানো অসুস্থতা হলেও আরও একটু পরে বিছানা বাঁচিয়ে রাত্রিবাস ভিজিয়ে ফেলা সুস্থতার লক্ষণ।

এভাবেই এল ১৯৮৬ সাল। অষ্টম শ্রেণী। এই বছরটিতেই উপস্থিত হল এক বিরল মহাজাগতিক ঘটনা। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একটি ধুমকেতুর আবিষ্কর্তা হ্যালি সাহেব আমাদের প্যান্টের তলায় নিরাপদে আশ্রয় নিলেন। ওনার এই আশ্রয়ের ফলে সর্বসমক্ষে বাক্যবিনিময়ের ওপর থেকে অনেক বাধাবিঘ্ন যে খুব সহজেই অন্তর্হিত হয়েছিল সে তো বলাই বাহুল্য।

যাই হোক, কুড়িয়ে বাড়িয়ে নিজেদের শরীরটিকে মোটামুটি জেনে নেওয়ার পরে অবধারিতভাবেই কৌতূহল জেগে ওঠে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি, সেখানেও কি চলে এই ভাঙা-গড়া, হাজার হোক মানুষ তো। দাড়ি-গোঁফ যে গজাবে না সে তো জানাই আছে, কিন্তু এর পরে?

এই জটিল প্রশ্নের মীমাংসা খুঁজতে একদিন রাতে খাওয়াদাওয়ার পরে ওয়ার্ডেনরা ওয়ার্ড ভিজিট করার আগেই একটি ডর্মিটরিতে আলোচনা সভা বসল। আলোচনায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক নিরাপত্তারক্ষীদের প্রবল আপত্তিতে দরজার কাছাকাছিই বসা হল। আলোচ্য বিষয় আগেই বলা হয়েছে। যেটুকু অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করা গিয়েছিল তা থেকে সর্বসম্মতিক্রমে রায় ঘোষণা হল মহিলাদের বাহুমূল কেশহীন হয়।

ওহ, বলতে ভুলে গিয়েছি ১৯৮৫ সালেই মুক্তি পেয়েছিল রাম তেরি গঙ্গা মইলি। আরও অনেক ছবি তার আগে-পরে মুক্তি পেলেও মহামান্য বিচারকরা এই ছবির নায়িকা দ্বারা সর্বাধিক প্রভাবিত হয়েই এই বহুমূল্য ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করেন।

 

পরিচয় সেনগুপ্ত


  

       

আপনি অজানাই রয়ে গেলেন

 

কখনও কখনও

পর্দা টানতে ভুলে যান,

আমার খোলা জানালা দিয়ে দেখি

গাঢ় নীল মখমলি রাত্রিবাসে আপনাকে।

খোলা কাঁধ আর পিঠ ছুঁয়ে

নেমে যাওয়া

ঘরে জ্বলতে থাকা

নরম নৈশালোকে

মোহময়ী আপনি

মোবাইলে কথা বলতে বলতে

খিলখিলিয়ে হেসে উঠে

যখন চুল সরিয়ে নেন হাত দিয়ে,

হঠাৎ চোখে পড়ে

গভীর উপত্যকার হাতছানি,

বিশ্বাস করুন

নিজেই চেপে ধরি

নিজের হাত।

তারপরেই সম্বিত ফেরে,

সত্যি

অনেক দূর থেকে দেখছি,

তাই হয়ত প্রায় পুরোটাই

অজানা থেকে গেলেন।

 

পরিচয় সেনগুপ্ত

 

 

Click the arrow

Next